Sunday , September 27 2020
Breaking News
সালাতের গুরুত্ব এবং সালাতের আহকাম ও আরকান সমূহ
সালাতের গুরুত্ব এবং সালাতের আহকাম ও আরকান সমূহ

সালাতের গুরুত্ব এবং সালাতের আহকাম ও আরকান সমূহ

সালাতের গুরুত্ব এবং সালাতের আহকাম ও আরকান সমূহ। সালাত আরবি শব্দ। সালাত শব্দটি সালমুন ধাতু থেকে এসেছে। যার শাব্দিক অর্থ হলো আগুনে পুড়ে কোনো বস্তুকে নির্ধারিত আকার দেওয়া। বিশেষ করে বেত, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তীর ও ধনুকের ছিলা তৈরি করা। সালাতের এসব আভিধানিক অর্থের সঙ্গে এর অন্তর্নিহিত আবেদনের মিল রয়েছে। সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দরুদ বা শুভকামনা, তাসবিহ বা পবিত্রতা বনর্না,রহমত, দয়া, করুনা সহজ ভাষায় ইস্তাগফার অতএব ক্ষমা প্রার্থনা ।সালাত শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ইবাদত সম্পাদন করা। এর মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো  যথা: ফজর বা ভোরের সালাত; জোহর বা দ্বিপ্রহরের সালাত; আসর বা বিকেলের সালাত; মাগরিব বা সান্ধ্যকালীন সালাত; ইশা বা রাত্রকালীন সালাত।

আল কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর অর্থ সম্পূর্ণ ইংরেজি ও বাংলায়

সালাতের নির্দেশ:
সালতের নির্দেশ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মিরাজের সময় হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর মাধ্যমে আসে। সালাত প্রত্যেক মুসলিমের জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য  বিষয়। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রত্যেক মুসলিমের উপর মৃতুর আগ পযন্ত ফরজ। সালাত সম্পর্কে  মহান আল্লাহ বলেন নিঃসন্দেহ সালাত বিশ্বসীদের ওপর সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আবশ্যকীয় করা হয়েছে। ( সুরা নিসা, আয়াত-১০৮)

সালাতে ব্যপক শিক্ষা রয়েছে । সালাত মানুষকে সত্যবাদিতা শেখায়, সময়ানূবর্তিতা শেখায়,ন্যায়পরায়নতা শেখায় । আল্লাহ তাআলার ঘোষণা : নিশ্চয়ই নামাজ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবূত (২৯) : ৪৫)। অতএব এ থেকে বোঝা যায় যে সালাতের গুরুত্ব আপরিসীম।

দোলনা থেকে কারাগারে-আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

সালাতকে অবজ্ঞা করা নিজ অস্তিত্বকে অস্বীকার করারই নামান্তর। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন, যে সালাত প্রতিষ্ঠা করল, সে  দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করল আর যে সালাতকে বিনষ্ট করল, সে দ্বীনকেই বিনষ্ট করল। সালাত মনোদৈহিক তথা মানসিক, মৌখিক ও দৈহিকের সঠিক সমন্বয়ের একটি সমন্বিত ইবাদত। যার সঙ্গে আর্থসামাজিক অন্যান্য বিষয়ও জড়িত। আর্থিক বিষয়টি হালাল রিজিকেরও অন্তর্ভুক্ত এবং হালাল জীবিকা দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে এবং দৈহিক-জৈবিক পবিত্রতা সালাতের মৌলিক ও প্রাথমিক শর্তও বটে।

সালাত বা নামাজের অন্যতম শিক্ষা ‘খুশু–খুজু’ (বিনয় ও নম্রতা)। খুশু-খুজু যা কিনা সালাতের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবহার। আর একাগ্রতাই সালাতকে প্রাণবন্ত করে তোলে। কেবলই অনুভূতিহীন ঠোঁট নড়াচড়া ও ওঠা–বসার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। মনে রাখতে হবে, সালাত পাগল ও শিশুদের ওপর অপরিহার্য নয়। যে ব্যক্তি যত ধীরস্থির, ধ্যান, জ্ঞান, মানসিক, শারীরিক দিক থেকে যোগ্য এবং এমন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন যে জাগতিক জগতের জায়নামাজে সিজদায় উপনীত হয় বটে, তবে পবিত্র আমেজ ও আবেগে, অনুভূতিতে, চক্ষু মুদে জাগতিক জগতের চৌহদ্দি ভেদ করে আরশের ফরশে সিজদাহকে পৌঁছাতে পারে; সে-ই সালাতকে প্রাণবন্ত করতে পারে। এরূপ সালাত মানুষের সুস্থ চিন্তা, ইমানি জীবনকে পূর্ণতা দেয়। তখন এক ওয়াক্তের সালাতবিহীন সময় জীবনে যে বোধগত শূন্যতা সৃষ্টি করে, সেটাই তার জন্য চরম মানসিক শাস্তির কারণ হয়ে ওঠে। জাহান্নামের শাস্তি, সে তো দূরতম বিষয়।

মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা জুবায়ের আহমদ আনসারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

সালাতের ভিতরে এবং বাহিরে কিছু অবশ্যই করনীয় বা পালনীয় বিষয়সমুহ রয়েছে,যেই বিষয়গুলো পালন না করলে সালাত সহি- শুদ্ধ হয় না।  সালাত শুরুর আগে যে সাতটি কাজ পালন করা অবশ্যক ,সেগুলোকে সালাতের আহকাম বলা হয় । সেগুলো হলো :

১. শরীর পাক : ( শরীর পাক বা পবিত্র করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো গোসল ,যদি গোসলের প্রয়োজন না হয়। তাহলে ওযু বা তায়াম্মুম করলেও হবে)।
২.কাপড় পাক: শরীর ঢাকার জন্য যে কাপড় পরিধান করা হয় সেটা পাক বা পবিত্র হওয়া। সেটা হতে পারে জামা, পাজামা, প্যান্ট, লুঙ্গি, টুপি ।
৩.সালাতের জায়গা পাক : এখানে বোঝানো হয়েছে সালাত আদায়কারী যেখানে সিজদাহ দেবে বা যেখানে সালাত আদায় করবে।
৪.সতর ঢাকা : (পুরুষ এর নাভির নিচ থেকে হাঁটু পযর্ন্ত এবং মহিলাদের দুই হাতের কব্জি, পদদ্বয় এবং মুখমন্ডল ব্যতিত দেহ ঢেকে রাখা)
৫.কিবলামুখি হওয়া :(অথা্ৎ কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা )
৬.ওয়াক্ত অনুযায়ী সালাত আদায় করা : (এখানে জামাতের সাথে সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে)
৭.সালাতে নিয়ত করা :(যে ওয়াক্তের সালাত আদায় করবে মনে মনে তার নিয়ত করা)

সহজ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখার ১০০টি কৌশল-১ম পর্ব

সালাতে ভিতরে বা সালাত চলাকালীন সময়ে করতে হয় সেগুলোকে সালাতের আরকান বলা হয় । সালাতের আরকান ৬ টি সালাতের আরকানসমুহ :
১.তাকবির-তাহমিরা বা আল্লাহু আকবার বলে সালাত শুরু করা।
২.দাড়িয়ে সালাত আদায় করা :দাড়িয়ে আদায় না করতে পারলে বসে বা শুয়ে এমনকি ইশারায় আদায় করতে পারবে।
৩.কিরাত পড়া :চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাত এবং ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল নামাজের সব রাকাতে কিরাত পড়া ফরজ
৪.রুকু করা : প্রতিটি সালাতের প্রত্যেক রাকাতে রুকু করা ফরজ।
৫.সিজদাহ করা : সালাতের প্রত্যেক রাকাতে সিজদা করা ফরজ।
৬.শেষ বৈঠাক : যে বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ, দোয়া মাছুরা পড়ে সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করা হয় তাকেই বলে শেষ বৈঠক) ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করা।

সহজ পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখার ১০০টি কৌশল-৩য় পর্ব

About techrombd

Check Also

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে জুম্মার নামাযের করুন দৃশ্য

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে জুম্মার নামাযের করুন দৃশ্য। মসজিদের দুয়ার খোলা কিন্তু প্রবেশ নিষেধ। …

কোরআন-হাদীসের আলোকে‘লাইলাতুল মুবারাকা’বা শবেবরাতের তাৎপর্য ও আমল

কোরআন-হাদীসের আলোকে‘লাইলাতুল মুবারাকা’বা শবেবরাতের তাৎপর্য ও আমল

কোরআন-হাদীসের আলোকে‘লাইলাতুল মুবারাকা’বা শবেবরাতের তাৎপর্য ও আমল। এছাড়া ‘লাইলাতুল মুবারাকা’কে ‘লাইলাতুল বরাত’ও বলা হয়ে থাকে। …

কণ্যা সন্তান ভাগ্যবান লোকেদের জন্য নেয়ামত স্বরুপ

কণ্যা সন্তান ভাগ্যবান লোকেদের জন্য নেয়ামত স্বরুপ

কন্যা সন্তান! আল্লাহু তায়ালার এক অশেষ নেয়ামত কণ্যা সন্তান ভাগ্যবান লোকেদের নেয়ামত স্বরুপ। আল্লাহ তায়ালা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!