Breaking News
দোলনা-থেকে-কারাগারে-আল্লামা-দেলাওয়ার-হোসাইন-সাঈদী
দোলনা-থেকে-কারাগারে-আল্লামা-দেলাওয়ার-হোসাইন-সাঈদী

দোলনা থেকে কারাগারে-আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

দোলনা থেকে কারাগারে-আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সুপ্রিয় techrombd.com এর দর্শকমন্ডলী শিরোনামটি শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দোলনা থেকে কারাগার পর্যন্ত যে বৃহৎ ও বিস্তৃত জীবনী সেটি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো, ইনশা-আল্লাহ। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে যে কয়জন বিশ্ব নন্দিত মুফাচ্ছিরে কোরআন ও ইসলামের দাঈ আছেন তন্মধ্যে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নি:সন্দেহে অন্যতম। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন প্রখর মেধা সম্পন্ন । গ্রাম-বাংলা, শহর-নগর এমন কি দেশের গন্ডি পেরিয়ে পৃথিবীর অসংখ্য দেশের জনমানুষের অত্যন্ত প্রিয় ও শ্রদ্ধেও একজন ব্যক্তির নাম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা তাঁকে “কোরআনের পাখি” নামে আখ্যায়িত করেছেন। মাহফিল,ধর্মীয় আলোচনা কিংবা বাংলাদেশের মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়েও তিনি আলোচনায় কোরআন ও হাদীসের রেফারেন্স দিয়ে কথা বলতেন। উদ্ধৃত কোরআনের আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট বা হাদীসের ক্ষেত্রে- হাদীসের প্রেক্ষাপটসহ বিস্তারিত ভাবে আলোকপাত করতেন। যাতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন ধরণের সংশয় বা ভুল বোঝা-বুঝির সৃষ্টি না হয়। ধর্মীয় তথা ইসলামিক আলোচক হিসাবে তিনার সুনাম এখনও রয়েছে বিশ্বজুড়ে। তিনি পৃথিবীর অর্ধশত বা তার থেকেও অধিক দেশে আমন্ত্রিত হয়ে ইসলামের সু-মহান আদর্শ তথা কোরআন ও হাদীসের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনার হাতে হাত রেখে শহস্রাধিক হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। খুঁজে পেয়েছেন তাদের শান্তির ঠিকানা। তিনি শুদ্ধ ও সুমিষ্ট বাংলা ভাষায় কথা বলতেন, আলোচনার প্রেক্ষাপটে তিনি হিন্দি, উর্ধ্বু,ফারসি ও ইংরেজি ভাষাতেও কথা বলতেন। সাথে ছিল তাঁর সুললিত কন্ঠে ঐশি বাণী কোরআনুল কারীমের অসাধারণ তেলওয়াত। যা আজোও ধ্বনিত হয় মানুষের হৃদয়ে থেকে হৃদয়ে, ভেষে চলেছে ইথার থেকে ইথারে। তিনার কথাগুলো ছিল খুবই প্রাঞ্জল ও শ্রুতিমধুর। মাঝে মাঝে শিক্ষামূলক কৌতুক ও কথা বার্তার মাধ্যমে শ্রোতাদের আনন্দ দিতেন। সহজ ও সহীহ্ ভাবে তিনি কোরআনের বাণী সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচার করতেন। গগণচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও অহংকারের লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না তিনার জন্ম থেকে কারাগার পর্যন্ত এ সুদীর্ঘ বাস্তব জীবনে । আসুন আজ আমরা সেই মহা মানবের জীবনী সর্ম্পকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিছু জানতে চেষ্টা করি। মহান রব্বুল আলামিন যেন আমাকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের জীবনী সঠিক ভাবে উপস্থাপনের তৌফিক দান করেন-আমিন।

Table of Contents

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ব্যক্তিগত পরিচিতি:

১। নাম: মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
২। পিতার নাম: মাওলানা ইউসুফ সাঈদী
৩। মাতার নাম: গুলনাহার বেগম
৪। স্ত্রীর নাম: শেখ সালেহা বেগম
৫। জন্মস্থান: গ্রাম: সাইদখালী,জেলা: পিরোজপুর
৬। জন্ম তারিখ: ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ খ্রি:।

উল্লেখ্য, তিনার পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ফুরফুরা পীরের খলিফা এবং স্বনামধন্য আলেমে দ্বীন ছিলেন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের শিক্ষা জীবন:

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পিতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। এরপর খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়ালেখা করেন, পরবর্তীকালে ১৯৬২ সালে ছারছিনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করেন। তার পর তিনি বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি,পররাষ্ট্রনীতি, মনোবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন তত্ত্বের উপর সুদীর্ঘ ৫ বছর অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবন:

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে ৪ পুত্র সন্তানের জনক। তন্মধ্যে আল্লামা সাঈদীর জৈষ্ঠ পুত্র মরহুম রাফিক বিন সাঈদী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিচার বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত মানবতা বিরোধী অপরাধে পিতার ফাঁসির রায় শুনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন)। ২য় সন্তান শামীম বিন সাঈদী। ৩য় সন্তান মাসুদ বিন সাঈদী, তিনি বর্তমানে ইন্দুরকানি উপজেলা পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান ও ৪র্থ সন্তানের নাম নাসিম বিন সাঈদী।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যয় তথা তাঁর কর্মজীবন:

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের কর্মজীবনকে আমরা চার ভাগে ভাগ করতে পারি-
প্রথমত: আল্লাহর মনোনিত দ্বীন প্রচারক তথা দাঈ ইলাল্লাহ হিসাবে কর্মজীবন।
দ্বিতীয়ত: রাজনৈতিক কর্মজীবন ।
তৃতীয়ত: আন্তর্জাতিক কর্মজীবন।
চতুর্থ: আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কারাগার জীবন:

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের আল্লাহর মনোনিত দ্বীন প্রচারক তথা দাঈ ইলাল্লাহ হিসাবে কর্মজীবন:

তিনি দ্বীনের দাঈ হিসাবে যে বিশাল ও বিস্তৃত কর্মজীবন পার করেছেন তারই একটি সংক্ষিপ্ত রুপরেখা নিম্নে তুলে ধরা হলো: দাঈ ইলাল্লাহ হিসাবে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৬৭ সালে আত্মনিয়োগ করেন। তারপর থেকে যতদিন সময় পেয়েছেন, সে হিসাব মতে, সুদীর্ঘ ৫০ বছর তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর ৫০টির অধিক দেশে আমন্ত্রিত হয়ে ইসলামের সু-মহান আদর্শ তথা মহান রব্বুল আলামিনের প্রেরিত মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বাণী এবং যাঁকে সৃষ্টি না করলে পৃথিবীর কোন কিছুই সৃষ্টি করা হতো না সেই মরুর দুলাল, আকাইয়ে ঈমানদার, তাজেদারে মদীনা, আহম্মদ মোস্তফা, মোহাম্মদ মোস্তফা বিশ্বনবি হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর মুখ নিসৃত বানী ও রেখে যাওয়া জীবন আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন অত্যন্ত সাবলিল ও স্বমহিমায়।

(১) ৫দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, একটানা ২৯ বছর, চট্টগ্রাম প্যারেড গ্রাইন্ড ময়দান। এ মাহফিলে পবিত্র কাবা শরীফের সম্মানিত ইমাম ২বার প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেছেন।
(২) ২দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, সুদীর্ঘ ৩৮ বছর, খুলনা সার্কিক হাউজ ময়দান।
(৩) ৩দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, একটানা ৩৩ বছর, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গন।
(৪) ৩দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, একটানা ৩৫ বছর,রাজশাহী সরকারি মাদ্রাসা প্রাঙ্গন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ৩রা সেপ্টেম্বর ২০১৯, রোজ মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মাদ্রসাটির নাম পরিবর্তন করে হাজী মুহম্মদ সুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে নাম করন করেছেন।
(৫) ২দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, একটানা ২৫ বছর, বগুড়া শহর।
(৬) ৩দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, একটানা ৩৪ বছর,ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে ময়দান।
(৭) ৩দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, একটানা ৩৪ বছর,ঢাকার পল্টন ময়দান।
(৮) ৩দিন ব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোনআন মাহফিল করেছেন, সুদীর্ঘ ৩১ বছর,কুমিল্লা ঈদগাহ ময়দান।

এছাড়াও বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে তিনি মাহফিল ও ধর্মীয় আলোচক হিসাবে অংশ গ্রহণ করেছেন জীবনের সবটুকু সময়।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন:

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সমর্ধক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। সর্বশেষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশিষ্ট আইনজীবী ও আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান জননেতা শুধাংস শেখর হালদারকে পরাজিত করে পিরোজপুর-১ আসন থেকে পরপর দু-দুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য, তিনি যে ভোটার এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেটির বেশির ভাগ ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি কতটা সৎ, নির্ভিক, অকুতভয়, নেতৃত্ব সম্পন্ন ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নেতৃত্বে পিরোজপুরের যে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা আজো পিরোজপুরবাসী বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করেন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের আন্তর্জাতিক জীবন:

(১)সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে রাজকীয় মেহমান হিসাবে ১৯৭৬ সাল থেকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেব হজ্জ পালন করেন। ১৯৯০-২০০৮ সাল পযর্ন্ত রমাজান মাসে মক্কা-মদীনায় তিনি প্রায় পুরোটা সময় থাকতেন।
(২)ইরানের ৩য় রাষ্ট্রপতি সৈয়দ আলী হোসেনী খামেনেয়ী এর আমন্ত্রণে ১৯৮২ সালে প্রথম বিপ্লব বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তিনি তেহরান সফর করেন।
(৩) বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এর আমন্ত্রণে ১৯৯১ সালে কুয়েত-ইরাক যুদ্ধের মিমাংসা বৈঠকে যোগদান করেন।
(৪) বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এর একান্ত আমন্ত্রণে ১৯৯১ সালে বাইতুল্লাহ তথা কাবা শরীফের ভিতরে প্রবেশ করেন। যেখানে সাধারন কোন মানুষের প্রবেশের অনুমতি থাকে না।
(৫) ইসলামী সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা ১৯৯১ সালে তাঁকে “আল্লামা” খেতাবে ভূষিত করেন।
(৬) আমেরিকান মুসলিম ডে প্যারেড সম্মেলনে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ১৯৯৩ সালে “গ্রান্ড মার্শাল”পদক প্রদান করা হয়।
(৭) লন্ডন মুসলিম সেন্টারের উদ্বধনী অনুষ্ঠানে কাবা শরীফের সম্মানিত ইমাম ‘শায়েখ আব্দুর রহমান আস সুদাইস’এর সাথে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও আমন্ত্রিত হন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের প্রিয় ও অপ্রিয় বিষয় সমূহ:

১) প্রথম কারাবরণ করেন- ১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাই
২) হজ্বপালন করেন-১৯৭৬ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর।
৩) ইসলামিক গ্রন্থ রচনা করেছেন-৭৫টি।
৪) প্রিয় রাজনৈতিক দল-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
৫) প্রিয় ছাত্র সংগঠনের নাম- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরি এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা।
৬) প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব-সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী (রহ:)পাকিস্থান।
৭) প্রিয় ইসলামিক বক্তা-শায়েখ আব্দুল আল-হামিদ কিশক(মিশর), আহমেদ হোসেন দীদাত(গুজরাট,ভারত), এবং ড. সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী(বাংলাদেশ)।
৮) প্রিয় লেখক-ড. সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী (রহ:) পাকিস্থান, হাসান আল বান্না(মিশর), ড. মরিস বুকাইলি(ফ্রান্স), মাওলানা আব্দুর রহিম(বাংলাদেশ) এবং কৃষণ চন্দর(পাকিস্থান)।
৯) প্রিয় কবি-আবু মুহাম্মদ মুসলিহ আল দীন বিন আবদাল্লাহ শিরাজি (ইরান) যাঁকে আমরা শেখ সাদী (রহ:) নামে চিনি, গিয়াসউদিন আবুল‌ ফাতেহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-খৈয়াম নিশাপুরি (ইরান) যাঁকে আমরা ওমর খৈয়াম নামে চিনি, স্যার মুহাম্মদ ইকবাল (পাকিস্থান) যাঁকে আমরা আল্লামা ড: ইকবাল নামে চিনি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম(বাংলাদেশ) এবং মুসলিম রেনেসাঁর কবি ফররুখ আহমদ(বাংলাদেশ)।
১০)প্রিয় বন্ধবর-ড. সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী(বাংলাদেশ)।
১১) ঘৃনা-দাম্ভিকতা, সময় অপচয়কারী, কৃতঘ্নতা এবং গীবত।
১২) অবসর-কোরআন তেলওয়াত, বিভিন্ন গ্রন্থ অধ্যয়ন ও গবেষণা, স্বজনদের সাথে প্রাত্যহিক জীবন নিয়ে আলোচনা।
১৩) স্মরণীয় মুহূর্ত-প্রথম কাবা শরীফের ভিতরে প্রবেশ।
১৪) জীবনাদর্শ- আকাইয়ে ঈমানদার, তাজেদারে মদীনা, আহম্মদ মোস্তফা, মোহাম্মদ মোস্তফা বিশ্বনবি হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর জীবনাদর্শ।
১৫) স্বপ্ন-বাংলাদেশের জমীনে ইসলামী শাসন বাস্তবায়ন।
১৬) কামনা-শহীদি মৃত্যু।
১৭) ভয়-মহা পরাক্রমশালী,মহান স্বত্তা, আরশে আজিম ও শেষবিচার দিনের মালিক আল্লাহ সুবহান আল্লাহ তা’য়ালার

আমরা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের কারাগার জীবন:

প্রথম কারাবরণ করেন- ১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাই। সে বারে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। এরপর তিনি সুদীর্ঘ ৩৫ বছর ছোট-খাট সমস্যা থাকলেও বেশ ভালই ছিলেন। হঠাৎ করে মানবতা বিরোধী অপরাধের কারণে ২০১০ সালের ২৮জুন ২য় বারের মত কারাবরণ করেন। ১৯৭১ সালের কথিত মানবতা বিরোধী তথা যুদ্ধাপরাধের মামলায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞ আদালত ফাঁসির রায় দেন। এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের বড় ছেলে রাফিক বিন সাঈদী হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। শুধু তাই নয় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে আন্দোলন ও প্রতিবাদ মিছিল করতে গিয়ে প্রায় ১৫০জনেরও বেশি মানুষ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভালবাসায় শহীদ হন। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। এই রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিলের রায় পর্যবেক্ষণ করে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি কারারুদ্ধ অবস্থায় আছেন। আমরা জানিনা আর কখনও তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন কিনা। জানিনা বাংলার জমীনে তিনার মত একজন গুণী আলেমের পদার্পণ হবে কিনা। জানিনা আর কখনও তিনার বজ্র ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হবে কিনা।

আসুন আমরা সকলে মিলে কোরআনের পাখি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের জন্য হৃদয় উজাড় করে মহান রব্বুল ইজ্জতের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন, দয়া করে, মায়া করে ,তাঁর মুক্তির ফয়সালা করে দেন। আবার বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর বুকে তিনি যেন তার সুমধুর কণ্ঠে কোরআন ও হাদীসের বাণী পৌছে দিতে পারেন। আমরা যেন তাঁর কথাগুলো শুনে আমাদের ঈমানী জজবাকে আরোও মজবুত করতে পারি। পরিশেষে এই দোয়াই করি, মহান আল্লাহ সুবহান আল্লাহ তা’য়ালা যেন আমাদের ইহকালীন শান্তি ও আখেরাতে নাজাত লাভের সু-ব্যবস্থা করে দেন-আমিন।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়াদৈনিক সেনবাগের কণ্ঠ

About techrombd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!