Breaking News
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

“বুকের বাঁ পাশে দুই ইঞ্চির ঐ লোগো টাই নাকি গর্বের! এসো হে নবীন, ইতিহাসের সাথে নিজেকেও যুক্ত করতে এসো” এইচএসসি ভর্তি ইচ্ছুক বন্ধু ও অভিভাবকগণকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ আপনাদের সামনে ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020 নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনার সন্তানের সার্বিক মঙ্গল কামনায় নিম্নে ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজের রিভিউ 2020 তুলে ধরা হলো।

#নটরডেম কলেজ (NDC)

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

রাজধানী ঢাকা শহরের মতিঝিল-আরামবাগ এলাকায় স্থাপিত নটরডেম কলেজ। প্রথমে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে পুরানো ঢাকার লক্ষ্মীবাজার এলাকায় ‘সেন্ট গ্রেগরি কলেজ ‘নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে তা বর্তমান এই নিজেস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয় এবং কলেজর নাম পরিবর্তন করে ‘নটর ডেম কলেজ ‘রাখা হয়।

নটরডেম কলেজের বৈশিষ্ট সমূহ:
ক) নৈতিকতা
খ্রিস্টান মিশনারি ফাদারদের দ্বারা পরিচালিত বিধায় নটর ডেম কলেজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নৈতিক আদর্শে পরিচালিত। ফলাফলই যে লেখাপড়ার মুখ্য উদ্দেশ্য হতে পারে না তার বাস্তব উদাহরণ নটর ডেম কলেজ। প্রতি মাসের শেষ বুধবার নৈতিকতার উপর বিশেষ ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। নটর ডেম কলেজ খ্রিস্টান মিশনারী কলেজ হওয়া সত্ত্বেও এর ভেতরে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ রয়েছে যা মূলত অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিটি ছাত্রের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এজন্য হয়তো নটরডেমিয়ানদের মধ্যে উদ্রবাদিতার প্রভাব কম থাকে। তবে নৈতিকতা রক্ষার্থে নটর ডেম কলেজের নিয়ম কানুন অনেক বেশি কঠোর। ‘দোষ করলে শাস্তি নিশ্চিত’ এই ভয়েই সহজে কেউ অপরাধ করার সাহস পায় না তাই কলেজে সবসময় শান্তিপ্রিয় পরিবেশ বজায় থাকে যা লেখাপড়ার জন্য অতীব জরুরী।

খ) দেশসেরা শিক্ষক
দেশসেরা প্রতিভাবান শিক্ষকদের বৃহৎ অংশ রয়েছে নটর ডেম কলেজে। যারা প্রত্যকেই তাদের সাবজেক্টিভ জ্ঞানে পন্ডিত। দেশের সেরা ছাত্রদের পড়াতে পড়াতে মনের অজান্তেই তারা অসাধারণ কিছু গুণাবলি রপ্ত করে ফেলে যার ফলে তোমার আকার ইঙ্গিতেই তোমার ভেতরের প্রতিভা তারা অনুধাবন করে ফেলতে পারে যা একজন ছাত্র হিসেবে শিক্ষকের কাছে তোমার প্রথম চাওয়া বলা যেতে পারে। আমি শুধু বলব না যে এরা ক্লাশে ১০০% দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করে বরং বলব নিজের ভেতরের শক্তিকে খুজে পেতে সাহায্য করে যা অতীব জরুরী ব্যক্তিজীবনে সফলতার পাওয়ার জন্য। যেকোনো ধরনের সমস্যায় তাদের কাছে সাহায্য চাইলে তারা যেভাবে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেন তা তুমি অন্য কোথায় পাবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারো।কে না চায় এমন শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেতে!

গ) সেরাদের সংস্পর্শ
আচ্ছা, একটু ভেবে দেখ তো, যে ছেলেটা বুয়েট/মেডিকেল/ঢাবি তে প্রথম হবে সে তোমার পাশেই বসে এবং তোমার সামনের ছেলেটা এবার অমুক অলিম্পিয়াডে আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তোমার পেছনের ছেলেটা অসাধারণ দাবা খেলতে পারে…কে চাইবে না এমন সঙ্গের সংস্পর্শে আসতে! নটরডেম কলেজে এটা খুব সাধারণ একটা বিষয়।মজার ব্যাপার কি জানো? যে ছেলেটা ট্যালেন্ট-হান্টে দেশ সেরা হয়েছে সেও অনেকের কাছে সেই বিষয়েই পাত্তা পায় না কলেজের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায়!ভালোর থেকেও যে ভালো থাকতে পারে সেটা তুমি বুঝতে পারবে নটরডেম কলেজে। আশেপাশের সব মেধাবীদের ভীরে যদি তুমি টিকে যেতে পারো তাহলে তোমাকে আর কখনও পিছে ফিরে তাকাতে হবে না এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারো।

ঘ) দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক
প্রতিটি জেলার একজন করে হলেও তুমি তোমার গ্রুপে পাবে। তুমি যদি ইচ্ছে করো তাহলে কিন্তু খুব সহজেই ৬৫ জেলার সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলতে পারো! তাছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা আয়ত্ব করার সুযোগ তো থাকছেই।তুমি যেখানেই যাও নটরডেমিয়ান বড় ভাই পাবেই এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ভাইদের সাপোর্ট তোমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

ঙ) ক্লাব কার্যক্রম
নটরডেম কলেজে রয়েছে ২৪টি ক্লাব যার প্রতিটি অত্যন্ত সক্রিয়। তোমার যেদিকে আগ্রহ তুমি সেই বিষয়ে যেন নিজেকে সর্বোচ্চ প্রকাশ করতে পারো তার পরিবেশ তৈরি করাই এই ক্লাবগুলোর মূখ্য উদ্দেশ্য।তাছাড়া এই ক্লাবগুলো প্রায়ই বিভিন্ন সেমিনার,ওয়ার্কশপের মাধ্যমে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এই ক্লাবগুলো অনেক বড় একটি প্লাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে তোমার জন্য।

চ) কুইজ
নটরডেম কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এরা সবসময় চাপের মধ্যে রাখে একজন ছাত্রকে যাতে তারা সবসময় পড়ার মধ্যে থাকে। এজন্য সপ্তাহে দুটি করে পরীক্ষা নেয়া হয় যা কুইজ নামে পরিচিত।মাত্র ৩০ মিনিটের এই পরীক্ষায় অপেক্ষাকৃত কম সময়ে বেশি প্রশ্ন উত্তর দিতে হয়। তাছাড়া এই পরীক্ষা সারা বছরই চলমান থাকে বিধায় নটরডেমিয়ানরা পরীক্ষা দিতে দিতে অভ্যস্থ হয়ে যায় এবং জীবনের কোনো পরীক্ষাতেই তাদের কোনোরকম ভয়ভীতি কাজ করে না যার প্রতিফলন দেখা যায় ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে।

ছ) ল্যাব
শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানে নটরডেম কলেজ বিশ্বাসী নয় তাই প্র্যাক্টিকালের ব্যাপারে কলেজ অনেক বেশি কঠোর। তুমি যতই ফাকিবাজ আর অলস হও না কেন নটরডেম তোমাকে দিয়ে প্রতিটি প্র্যাক্টিকাল করিয়েই ছাড়বে! সব কিছু হাতে কলমে করার মাঝে এক অন্যরকম আনন্দ আছে যা জ্ঞানার্জনকে আরো জীবন্ত করে তোলার পাশাপাশি একজন ছাত্রকে আরো বেশি বেশি জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে।ছাত্রাবস্থায় ল্যাব প্যারাদায়ক মনে হলেও পরবর্তীতে এর মূল্য প্রতিটি ছাত্র অনুধাবন করতে পারে।

জ) ফেস্ট
তুমি যদি ভেবে থাকো যে নটরডেম শুধু জ্ঞান অর্জন নিয়েই ব্যস্ত থাকে তাহলে তুমি বড্ড ভুল ভেবেছ। সারা বছরই একের পর এক ক্লাবের ফেস্ট থাকে এবং সেই ফেস্টকে কেন্দ্র করে কলেজ প্রাঙ্গণকে অলংকিত করা হয় নানা আঙ্গিকে এবং নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে তা উদযাপন করা হয় যা তোমার স্মৃতির ভান্ডারকে করবে আরো সমৃদ্ধ এবং আনন্দময়।

ঝ) ক্যাম্পাস
অসাধারণ গাছগাছালিতে ঘেরা নটরডেম কলেজ। মাঠ এবং কলেজের চারদিকে হরেক রকমের গাছ এর সৌন্দর্য্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হ্যারিংটন ভবনের সামনের বাগানের ফুলগুলো যে কারো মনকে যেকোনো সময় উদাসীন করে দিতে পারে!বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে বাস্কেটবলের নামে রাগবি খেলে কিংবা প্রতি টিমে ২০জন করে রেখে মাঠে ফুটবলের নামে প্রহসনের অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ কে চায় হাতছাড়া করতে!

ঞ) সম্মান
সব যদি আমি বলে দিই তাহলে তুমি নিজ থেকে কি আবিষ্কার করবে? এই বিষয়টি না হয় তোমার উপরেই ছেড়ে দিলাম!

ট) ফলাফল
এটা সবারই জানা। দেশের বিভিন্ন কলেজের মধ্যে শীর্ষ স্থান অধিকারী এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় সিংহভাগ ছাত্র সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়ে দেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটি তে নিজেদের স্থান করে নেয়।এবং ভবিষ্যতে দেশে ও দেশের বাইরে নিজের দেশ কে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।
(বাংলাদেশে আরো তুমি ভালো কলেজ পাবে যারা লেখাপড়ার জন্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে কিন্তু নটরডেম কলেজ তার অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।এজন্যই হয়তো দেশসেরা মেধাবীদের সিংহভাগের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে নটরডেম কলেজ)

নটরডেম এ ভর্তি হওয়া সকলের একটি স্বপ্নের বিষয়।
আসলে এটা এত সহজ নয় আবার খুব যে কঠিন তাও নয় । এখানে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রথমেই এসএসসিতে ভালো ফলাফল দরকার। তারপর আসে ভর্তির জন্য আবেদন।
গতবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী :
১.বিজ্ঞান বিভাগের জন্য জিপিএ-5,
2.ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য জিপিএ-4.50
৩.মানবিকের জন্য সর্বনিম্ন 4.00

বিশেষ দ্রষ্টব্য : এই বছরের টা আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না তবে জিপিএ 5 থাকাটাই ভালো।
এসএসসিতে ভালো করলে শুধু ভর্তি আবেদন করা যাবে।পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিধারিত সময় ভর্তি পরীক্ষার সময় সূচী জানিয়ে দেওয়া হয়।লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলে পরবর্তীতে ভাইভা(মৌখিক পরীক্ষা) এর জন্য ডাকা হয়।মৌখিক পরিক্ষায় পাশ করলেই তবে এই দেশ সেরা অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে অন্যরকম জীবন উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে এ বছর নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে ভর্তি পরীক্ষা নাও হতে পারে।

# রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ (RUMC)

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ বাংলাদেশের ঢাকা শহরের উত্তরা এলাকায় অবস্থিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৪ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়টি এরই মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়েছে। রাজউকের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৪ সালে প্রায় সাড়ে ৪ একর জমির উপর রাজধানীর উত্তরায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ স্থাপিত হয়। ১৯৯৪ সালের প্রথম দিকে প্রধান একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষে কলেজ শাখার উদ্বোধন করেন।অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধার স্বল্পতার কারণে ১৯৯৫ সালে আরেকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং ২০০১ সালে ক্যাম্পাসটি বর্তমান রূপধারণ করে।একটি শাখা (প্রভাতী) নিয়ে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ যাত্রা শুরু করে কিন্তু অধিক শিক্ষার্থীর চাপ সামলানোর জন্য সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টিতে দিবা শাখা চালু করা হয়।
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৯৪
কার্যক্রম শুরু : ১৯৯৪
প্রতিষ্ঠাতা : বাংলাদেশ সরকার
কর্তৃপক্ষ : পরিচালনা পর্ষদ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
অধ্যক্ষ : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম
কর্মকর্তা : ৯৯
শিক্ষকমণ্ডলী : ১৭৫
শ্রেণী : ৬-১২
ভাষার মাধ্যম : বাংলা এবং ইংরেজি
বিদ্যালয়ের কার্যসময় : ১০ ঘণ্টা
ক্যাম্পাস : মহানগর
ক্যাম্পাসের আকার : ৪.৫ একর
ওয়েবসাইট : http://rajukcollege.net
যোগ্যতাঃ জিপিএ ৫.০০ মাষ্ট, সাথে নাম্বার ও নির্ভর করে।

শিক্ষা কার্যক্রম :
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ জাতীয় শিক্ষাক্রমের অধীনে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই শিক্ষাদান করে থাকে। প্রায় ২৫০০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে থাকে প্রতি শাখায়। ছেলে মেয়ে একসাথে উভয় শিফটে কার্যক্রম হয়।প্রভাতী শাখার পাঠদান সময় সকাল ০৭:৪৫ হতে ১২:১০ ঘটিকা এবং দিবা শাখার পাঠ দান সময় দুপুর ১২:৪৫ হতে ১৭:১০ ঘটিকা পর্যন্ত। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে প্রায় ১৫,০০০ বই সমৃদ্ধ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠাগার এবং উন্নতমানের ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটার পরীক্ষাগার রয়েছে।

সহশিক্ষা কার্যক্রম :
বিজ্ঞান ক্লাবঃ রাজউক বিজ্ঞান ক্লাব ঢাকা শহরের অন্যতম একটি সুপরিচিত বিজ্ঞান ক্লাব যারা প্রতি বছর বিজ্ঞান উৎসব আয়োজন করে থাকে।

বিতর্ক প্রতিযোগিতাঃ ২০০৮ সালের জাতীয় বিতর্ক উৎসবে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজকে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় পুরস্কার দেওয়া হয়।

ফটোগ্রাফি ক্লাবঃ RCPC নামক এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ক্লাব। প্রতিষ্ঠানের সকল অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি তাদের সদস্যরা করে থাকে।
এছাড়াও রোবোটিক্স ক্লাব, গণিত ক্লাব,ন্যাচার ক্লাব,আইসিটি ক্লাব,আর্ট ক্লাব, সাংস্কৃতিক সংগঠন ইত্যাদি।

# ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ (VNSC)

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

ভিকারুননিসা নূন কলেজ ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থিত বাংলাদেশে মেয়েদের একটি স্বনামধন্য কলেজ। ১৯৫২ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের (বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশ) গভর্নর ফিরোজ খান নুনের সহধর্মিনী ভিকার উন নিসা নূন ঢাকায় মেয়েদের একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করার লক্ষ্যে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন ও তাঁর নামানুসারেই স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছে। ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের সাথে ক্ষেত্রবিশেষে উপমহাদেশের ইতিহাসের সংযোগ রয়েছে।
এটি একটি বেসরকারি কলেজ। এই স্কুলটির সর্বমোট চারটি শাখা থাকলেও কলেজ কার্যক্রম প্রধান শাখা বেইলি রোড এবং বসুন্ধরা শাখায় হয়ে থাকে। এখানে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক এই তিনটি বিভাগ চালু রয়েছে।
ভিকারুননিসার প্রতিটি শিক্ষার্থী এটাকে “Second Home” বলেই বিশ্বাস করে। কারণ এই কলেজ শুধু তোমাকে পাঠদানই করবে না, বরং তোমার সারাজীবনের জন্য কিছু স্মৃতি তৈরি করে দিবে। শিক্ষকমণ্ডলী, সহপাঠী থেকে শুরু করে এই কলেজের সুবিশাল মাঠের ঘাস পর্যন্ত হয়ে উঠবে তোমার অতি আপনজন। আর এই কলেজের সাফল্যের কথা নাইবা বললাম।
প্রতিবছর এই স্বনামধন্য কলেজে নিজস্ব স্কুলের ছাত্রী ভর্তি নেওয়ার পর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বহিরাগত ছাত্রীদের ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু বহিরাগতদের জন্য এই আসন সংখ্যা খুবই সীমিত এবং প্রতিযোগিতামূলক।
তাই তুমিও যদি হতে চাও এই আকাশি-সাদা পরিবারের একজন সদস্য, এই কলেজটি রাখতে পারো তোমার পছন্দের তালিকায়।
বিজ্ঞান বিভাগ :-
. মোট আসন সংখ্যা – বাংলা ভারসন -১৬০০
. ইংলিশ ভারসন-১৫০
. জিপিএ -৫.০০
ব্যাবসায়ি বিভাগ :-
. মোট আসন সংখ্যা – বাংলা ভারসন – ২৫০~২৬০
. ইংলিশ ভারসন-নেই
. জিপিএ-৪.৫০
মানবিক বিভাগ :-
.মোট আসন সংখ্যা – বাংলা ভারসন -২৫০~২৬০
. ইংলিশ ভারসন-নেই
.জিপিএ-৪.০০
আবেদনকৃত ছাত্রীদের মধ্য থেকে ভর্তির জন্য বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ নম্বরের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে।

# হলিক্রস কলেজ

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেটে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গার্লস কলেজ হলিক্রস কলেজ অবস্থিত। বাংলাদেশে একমাত্র এই কলেজেই মেয়েদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়।
মূলত হলিক্রস কলেজ একটি ক্যাথলিক উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ। পবিত্র ক্রুশ সংঘের সন্ন্যাসিনীদের দ্বারা এই কলেজ পরিচালিত হয়। ১৯৫০ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই কলেজে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে প্রায় ২০০০ ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে।
কলেজটিতে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫.০০
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.০০
মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৩.০০
অর্জন করতে হবে।
হলি ক্রস কলেজ ২০২০-২১ইং শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখঃ
বিজ্ঞান বিভাগঃ ১৭ মে ২০২০ ইং
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগঃ ১৯ মে ২০২০ ইং
ঠিকানা:-
https://goo.gl/maps/Lr9kANU3u25MzQBJ9
মাসিক বেতন ২০০০/-
ভর্তি হতে লাগবে ১৩২০০/- সামথিং
কলেজের নিজস্ব কোনো হোস্টেল নেই।
হলি ক্রস কলেজে ২০১৯ সালের এইচএসসি রেজাল্টঃ
সাইন্স- পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৭৭৩
. পাশ এর হার ১০০%
. জিপিএ ফাইভ- ৬১৭
হিউম্যানিটিজ- পরীক্ষার্থী সংখ্যা -২৩৭
. পাশ এর হার ৯৯.১৫%
. জিপিএ ফাইভ- ৫৭
বিজনেজ স্টাডিজ – পরীক্ষার্থী সংখ্যা – ২৬০
. পাশ এর হার ১০০%
. জিপিএ ফাইভ- ৯০

# ঢাকা কলেজ

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

১৮৪১ সালে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম কলেজ ঢাকা কলেজ।১৭৯ বছর অতিবাহিত হওয়া ঢাকা কলেজ নিউমার্কেট সংলগ্নে অবস্থিত।এর বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ স্যার।বর্তমানে এটি ১৮ একর জায়গার উপর দাড়িয়ে আছে।ঢাকা কলেজে এসে একটা নতুন ব্যপার এর সাথে পরিচয় হবে সেটা হলো গ্যালারী। নয়টি গ্যালারি তে ফার্স্ট ইয়ার এর ক্লাস হয়।বোঝার স্বার্থে একটা গ্যালারীর ছবি এড করে দিব পোস্ট এর সাথে।গ্যালারী তে ক্লাস করার অনেক মজা পাবে।এখানে রয়েছে অনার্স ও ইন্টার মিলিয়ে মোট ৮ টি ছাত্রাবাস।কলেজে ঢুকতেই একটা বড় ম্যাপ চোখে পড়বে ওখান থেকে মিলিয়ে নিয়ে ক্যান্টিন,কমন রুম,দুইটা মাঠ,পুকুর,ছাত্রাবাস সব গুলো স্থান ঘুরতে পারবে।
এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতর বড় মাঠ সংলগ্ন রয়েছে ঢাকা কলেজ জামে মসজিদ।এছাড়া রয়েছে সুবিশাল দ্বিতল একটি অডিটোরিয়াম।নবীনদের গ্রহণ করে নেওয়ার জন্য যে অনুষ্ঠান করা হয় সেখানে উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী।
এবার কিছু বিষয়ে আসি যেগুলা অনেকের ভালো লাগবে আবার অনেকের খারাপ ও লাগতে পারে-
কলেজে দুই ধরনের কমিটি আছে, একটা তাপক একটা নিপক।এদের কাজ সার্বক্ষনিক শিক্ষার্থীদের কে নজরে রাখা।সামান্যতম ভূল-ত্রুটি করলেই আপনার আইডি কার্ড নিবে এবং ফলাফল এটেন্ড্যান্স ব্লকড!
চুল হতে হবে একদম ছোট, মানে একদম ছোট উদাহরণস্বরূপ ১ সে.মি বা তার ও কম।
কলেজের অভ্যন্তরীণ সকল পরীক্ষায় পাশ মার্ক ৫০%।
প্রথম বর্ষে ৪ টা CT,১ টা Half Yearly ও মার্চ-এপ্রিলের দিকে ইয়ার ফাইনাল এক্সাম।
এটা জেনে রাখা ভাল, এটেন্ড্যান্স মিনিমাম ৮০% মাস্ট(***)।মানে এটার কোন বিকল্প নাই।এক্সামের আগে ফিট লিস্ট দেওয়া হয়(Even CT এক্সামের আগেও) ঐখানে নাম আসবে না ৭৯% থাকলেও।আর প্রেজেন্ট ফিংগারপ্রিন্ট মেশিনের সাহায্যে,ফেইস রিকগনিশন মেশিন ও আছে।প্রবেশের সময় ৮ টার মধ্যে ফিংগারপ্রিন্ট দিতে হবে। ৮.০০.০১ হতে ৮.১৫.০০ পর্যন্ত লেট প্রেজেন্ট এরপর দিলে এবসেন্ট।৩ টা লেট প্রেজেন্ট হলে ১ টা এবসেন্ট।(এগুলা মনগড়া কথা না, নিজের চোখে দেখা-প্রত্যক্ষদর্শী)। ক্লাসে ফাকি দেওয়ার কোন ওয়ে নাই।অধ্যক্ষ স্যার সার্বক্ষনিক প্রতিটা ক্লাস মনিটরিং করেন সিসি টিভি এর সাহায্যে।এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু দেখলে সাথে সাথে প্রত্যেক ক্লাসে থাকা সাউন্ড সিস্টেম এর সাহায্য সতর্ক করেন।সব ক্লাস,করিডর সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
ক্লাসের সময়ঃ ৮-১১টা(৪টা ক্লাস দৈনিক)
প্রবেশের সময় ফিংগারপ্রিন্টঃ (৭.৩০-৭.৫৯)
প্রস্থানের সময় ফিংগারপ্রিন্টঃ (১১.০০.০১-১১.১৫.০০)
সপ্তাহে মোট ৫ টা ল্যাব(দিনে ২টা+অন্যদিন ২ টা+ বৃহঃবার ১ টা)
১ম ও ২য় ল্যাবে প্রবেশ এর সময় এবং প্রস্থানের সময় ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযোজ্য।তাই যেদিন ল্যাব থাকবে ঐদিন মোট ৬ বার ফিঙ্গারপ্রিন্ট লাগবে
সো বলা যায়, নিয়মকানুনে কঠোরতা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বিগত ২ বছর ধরে বেড়েছে প্রায় ১০ গুন।
যাতায়াতের জন্য রয়েছে ৮ টি বাস।(শঙ্খচিল,শঙ্খনীল,পদ্মনীল,পুষ্পক এবং আরো ৪টি)।
কলেজে ভর্তির সময় ৩৪০০+- চার্জ প্রযোজ্য এরপর ঐ বছরে আর কোন ফি নাই।ছাত্রাবাস এ উঠলে সিট কনফার্মেশন এর জন্য ৬১০০+- টাকা দেওয়া লাগে।
এবার আসি ভর্তি রিকোয়ারমেন্ট এঃ
এইটা এক এক বছর এক এক নিয়ম।নির্ভর করে ঐ বছরের বোর্ড ভিত্তিক ফলাফল এর উপর।যেমন ২০১৮ তে লাস্ট ছিল ১১৭০ আবার ২০১৯ এ ছিল ১১৬০।এ বছর রেজাল্ট আগের চেয়ে ভাল হলে এই রিকোয়ারমেন্ট বাড়বে অন্যথায় শিথিল থাকবে অথবা কমবে।
বিজ্ঞান এ লাগবে ৫.০০ (আসনঃ৮১০+-)
বানিজ্য তে ৪.৭৫ (আসনঃ ১৩৫+-)
মানবিক এ ৪.৫০(আসনঃ ১৩৫+-)
কলেজের Notable Alumni দের কথা জানলে, একটা গর্ব কাজ করবে নিজের ভেতর সবসময়!
আর রাজনীতি আছে,গ্যাঞ্জাম বেশি এসব কথা যারা বলে তাদের জন্য একটা কথা বলে দিও “আঙুর ফল টক”।ইন্টারমেডিয়েট লেভেল এ রাজনীতি অসম্ভব ব্যপার কাজেই বলে দিও আগে নিজে ভাল করে জানেন তারপর এসব বিষয়ে জ্ঞান দিয়েন।তুমি তোমার মতো কলেজ আসবা,পড়বা,ক্যাম্পাস এঞ্জয় করবা কোন রাজনৈতিক রেশ তোমার নাগালে আসবে নাহ।
সবশেষে বলতে চাই, নিয়মের সাথে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে প্রতিটা মুহুর্তই ভালো লাগবে।প্রথম কিছুদিন নিয়ম এর এই তিক্ততা মেনে নিতে অনেক কষ্ট হবে কিন্তু ভয় কে জয় করতে পারলেই সাফল্য আসবে ইনশাআল্লাহ!

শুনেছি,বুকের বাঁ পাশে দুই ইঞ্চির ঐ লোগো টাই নাকি গর্বের!
এসো হে নবীন, ইতিহাসের সাথে নিজেকেও যুক্ত করতে এসো।

# ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ (DRMC)

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সংস্কৃতি চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়।

ক্যাম্পাসঃ এটি ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় কলেজ ক্যাম্পাস! সুবিশাল এই ৫২ একরের ক্যাম্পাসে রয়েছে ১৩টি খেলার মাঠ, তিনটি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, অডিটরিয়াম, বাস্কেটবল কোর্ট, মসজিদ, পুকুর, হাসপাতাল, ক্যান্টিন, চিড়িয়াখানা, বটতলা, ৬ টি হাউস, টিচার্স কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ার্টার এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বাসভবন!

ভর্তি যোগ্যতা:
সাইন্স: সাইন্সে আবেদনের জন্যে সার্কুলারে জিপিএ ৫ চাওয়া হয়। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক হওয়ায় মূলত মার্কসকেই প্রাধান্য দেয়া হয়! ঢাকা শহরের কলেজগুলোর মধ্যে তুলনামুলক সবচেয়ে বেশী মার্কসে ছাত্র ভর্তি নিয়ে থাকে DRMC!
২০১৮ সালে মাইগ্রেশনের পরেও মর্নিংয়ে সর্বনিম্ন ১২০০+ মার্কস এবং ডে শিফটে সর্বনিম্ন ১১৮২+ মার্কসে ভর্তি নেয়া হয়েছে!(কোটা ছাড়া)
২০১৯ সালে মর্নিংয়ে সর্বনিম্ন ১২০০+ মার্কস এবং ডে শিফটে ১১৭০+ মার্কসে ভর্তি নেয়া হয়েছে!(কোটা ছাড়া)
এবছরেও এমনটাই হবে আশা করা যায় যদি এসএসসির রেজাল্ট খুব বেশি খারাপ না হয়!
কমার্স: কমার্সে আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা জিপিএ ৪.৫০। তবে আবেদনকারীর বেশিরভাগই হয় জিপিএ ৫ ধারী! এবং সিট সংখ্যাও একদম সীমিত! তাই জিপিএ ৫ পেলেই সেফ জোন বলা যায়।
আর্টস: আবেদনের নুন্যতম যোগ্যতা জিপিএ ৪.০০। তবে এক্ষেত্রেও বেশিরভাগ আবেদনকারী জিপিএ ৫ ধারী হয়! তবে জিপিএ ৪.৭৫+ পয়েন্ট থাকলে মাইগ্রেশনে আসার সম্ভাবনা আছে!

শিক্ষা কার্যক্রম: এ কলেছে ২ শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। প্রভাতি শিফটে সকাল ৭:৩০-১২:৩০ পর্যন্ত এবং দিবা শিফটে দুপুর ১টা-বিকাল ৬টা পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলে।
মাঝখানে একটি টিফিন পিরিয়ড থাকে। কলেজ থেকেই টিফিন দেয়ার ব্যাবস্হা আছে!
বেশিরভাগ শিক্ষকই অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করান। ক্লাসে নিয়মিত মনোযোগী থাকলে আর ক্লাসের পড়াটুকু বাসায় পড়ে নিলেই ৭০% পড়াশোনা ওখানেই শেষ হয়ে যাবে।
তবে অনেকের কাছেই কিছু শিক্ষকের ক্লাস অত্যন্ত বোরিং লাগতে পারে আবার অনেক শিক্ষকের ক্লাস মজা করতে করতেই শেষ হয়ে যাবে!

সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম: জাতীয় পর্যায়ে তো বটেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহনের সুযোগ পাওয়া যায় এখান খেকে! এছাড়াও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কলেজে বর্তমানে রয়েছে ১৮ টিরও অধিক ক্লাব! ক্লাবগুলো সারাবছর তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করে আসছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্লাব হলো:
DRMC Science Club
Remians Art Club
Remians Language Club
Remians Music Club
DRMC IT CLUB
DRMC Photography Club
DRMC Math Club
DRMC Games and Sports Club
DRMC Business And Career Club
DRMC Model United Nations Association
Remians Taekwondo Club – RTC

মাসিক বেতনঃ
অনাবাসিক: (টিউশন ফি ৮২৫+ অন্যান্য ফি ৭২৫) = ১৫৫০/=
আবাসিক: (১৫৫০+৫০০০)= ৬৫৫০ টাকা
মাসিক বেতন প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়।
অন্যান্য খরচ:
ভর্তির সময় (৮০০০+৮০০০) করে ২ মাসে মোট ১৬০০০ টাকা দিতে হয়।
আর সেকেন্ড ইয়ারে উঠার পর সেশনের শুরুতেই প্রায় ১০০০০ টাকা দিতে হয়।

হাউস: DRMC এর বিশেষত্বই হচ্ছে এর আবাসিক হাউসগুলো। (হোস্টেল বা হলগুলোকে এখানে হাউস বলা হয়। কারন এখানকার পরিবেশ অন্য যেকোনো হোস্টেল বা হলগুলো থেকে একদমই আলাদা। )
২ টি জুনিয়র এবং ৪ টি সিনিয়র সহ মোট ৬টি হাউস রয়েছে। প্রতিটি হাউসই প্রায় ১৫০-২০০ ছাত্র ধারনক্ষমতা সম্পন্ন।
হাউসের সুযোগ সুবিধা এবং খাবারের মান যেমন অনেক ভালো তেমনি প্যারার পরিমানও অনেক বেশি।
প্রতিদিন সকালে মর্নিং পিটি থেকে শুরু করে রাতের নাইট ক্লাস পর্যন্ত শুরুতে প্রচুর প্যারা মনে হবে। পরবর্তীতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আর সমস্যা হয় না। মোবাইল ব্যাবহার করা যায় না।
নিয়ম কানুন প্রায় ক্যাডেট কলেজগুলোর মতো তবে ফাকি দেয়ার সুযোগও থাকে যা ছাত্ররা ধীরে ধীরে শিখে যায়!

কলেজ বাস: DRMC আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্যে কলেজ বাসের ব্যাবস্হা আছে! বাসগুলো ঢাকার বিভিন্ন রুটে চলাচল করে তাই কলেজে যাতায়াত নিয়ে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

লাইব্রেরীঃ কলেজে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার আছে। গ্রন্থাগারে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্র-পত্রিকা ছাড়াও প্রায় বিশ হাজার বই আছে। গ্রন্থাগারকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করা হচ্ছে এবং তা ধীরে ধীরে একটি মানসম্মত গ্রন্থাগারে পরিণত হচ্ছে।

হাসপাতালঃ ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য কলেজ প্রাঙ্গনে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। দুইজন অভিজ্ঞ এম.বি.বি.এস (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডাক্তার এবং অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্ট ছাত্রদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য সর্বদা নিয়োজিত আছেন। সাধারণ রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় টিকা দান ব্যবস্থা ইত্যাদি এখানেই সম্পন্ন করা হয়।

প্যারা: এই প্যারার কথা আলাদা করে বলতেই হয়। প্রচুর প্যারা দিবে। পড়াশোনা নিয়ে তো দিবেই কিন্তু কলেজের নিয়মকানুন এবং ডিসিপ্লিন নিয়েও প্যারা দিবে। চুল ছোট রাখতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ১ ইঞ্চির চেয়ে চুল বড় রাখা যাবেনা। কলেজের নিজস্ব সেলুন আছে। বড় চুল নিয়ে কলেজে আসলে কলেজেই চুল কেটে দিবে!
মোটকথা এমন অনেক প্যারা দিবে তাই যাদের প্যারা খাওয়ার শখ নাই তারা DRMC এর কথা মাথায়ই আনার দরকার নাই!
(আসলে সব ভালো কলেজেই প্যারা দেয়! প্যারার পরিমান যতো বেশি বলতে গেলে ততো ভালো কলেজ! তাই ভালো কলেজে পড়তে হলে প্যারার ব্যাপারটা মেনে নিতেই হয়। এগুলোই একসময় স্মৃতি হয়ে থাকে)

কৃতি শিক্ষার্থীঃ
এই কলেজের হাজারো কৃতি শিক্ষার্থী দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে আসছে।
কয়েকজন কৃতি শিক্ষার্থীর নাম না বললেই নয়ঃ
★শেখ জামাল : বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর যোদ্ধা।
★তারেক রহমান: বি.এন.পির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পুত্র।
★শমসের মুবিন চৌধুরী : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বিএনপি প্রধানের উপদেষ্টা।
★আবদুন নুর তুষার : গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপক এবং বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা।
★ড. নিজামউদ্দিন চৌধুরী : বিশিষ্ঠ স্থপতি, বুয়েট এর স্থাপত্য বিভাগের ডিন।
★মো: মিজারুল কায়েস – সাবেক পররাষ্ট্র সচিব।
★নসরুল হামিদ বিপু – বর্তমান মন্ত্রী ও এমপি।
★শফিকুল আলম মেহেদী – সাবেক পর্যটন সচিব ও সভাপতি, বাংলাদেশ পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ। তিনি এই কলেজেরই একজন প্রাক্তন ছাত্র! তিনি ছাত্রদের সাথে অনেক আন্তরিক এবং ছাত্রদের যেকোনো সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত দিয়ে থাকেন!
পরিশেষে এটুকুই বলবো, DRMC তে পড়তে চাইলে স্বাগতম তোমাকে এই ৫২ একরের স্বর্গে!

# আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

ঢাকা শহরে অবস্থিত স্বনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটিসেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত। কলেজটি মূলত স্কুল হিসেবে ১৯৬০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং শিল্পপতি প্রয়াত গুল মোহাম্মাদ আদমজীর অর্থায়নে ইংল্যান্ডের আদি পাবলিক স্কুল “ইটন” ও “হ্যারো”-র আদর্শে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদানের মাধ্যম ছিল ইংরেজি। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে শিক্ষার মাধ্যম হয় বাংলা। শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা – এই তিনটি হলো এর মূলমন্ত্র। ১৯৯৫ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ শাখাকে স্কুল শাখা থেকে আলাদা করা হয়। বর্তমানে এখানে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক্সট্রা ক্যারিকুলাম এক্টিভিটির দিক দিয়ে অত্যন্ত এগিয়ে এবং এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট ঈর্ষণীয়। প্রতি বছর রেজাল্টের তালিকায় শীর্ষ দশে অবস্থান করে এই প্রতিষ্ঠানটি।
বিজ্ঞান বিভাগ :-
. মোট আসন সংখ্যা – বাংলা ভারসন -১২৫০
. ইংলিশ ভারসন-৪০০
. জিপিএ -৫.০০
. মোট নাম্বার- ১১৮০+(২০১৯ অনুসারে)
ব্যাবসায়ি বিভাগ :-
. মোট আসন সংখ্যা – বাংলা ভারসন – ৬০০
. ইংলিশ ভারসন-নেই
. জিপিএ-৪.৫০
মানবিক বিভাগ :-
.মোট আসন সংখ্যা – বাংলা ভারসন -২২০
. ইংলিশ ভারসন-নেই
.জিপিএ-৪.০০
ক্লাসের সময় :-
গ্রীষ্মকাল- সকাল ৭:৩০ থেকে দুপুর ০১:১৫
শীতকাল- সকাল ৭:৪৫থেকে দুপুর টা ০১:৩০

# সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

১৯৫৪ সালে মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকরা এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন এর নাম ছিল “সেন্ট যোসেফ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল”।বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে এটিকে ইংরেজি থেকে বাংলা মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি, বাংলা উভয় মাধ্যমে শিক্ষাদান করা হয়।ঢুকতেই চোখে পড়বে দারুণ এক বাস্কেটবল গ্রাউন্ড।আর হ্যাঁ,প্রতিবছরই ম্যাথ অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত হয় এ কলেজে।
উচ্চ মাধ্যমিক তথা কলেজ পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য
#বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫.০০(বাংলা মাধ্যম)
এবং জিপিএ ৫.০০ (ইংরেজি মাধ্যম)
#বাণিজ্য বিভাগ থেকে জিপিএ ৩.৫০
#মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ২.৭৫
অর্জন করতে হবে।
★সেন্ট জোসেফ কলেজে গত বছর ভর্তি পরীক্ষা হয় ১৮ ও ১৯ মে তারিখে।
★ঠিকানা:-
আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর,ঢাকা।
https://maps.app.goo.gl/J1YPFfWUTimB7Ekb7
★আসন সংখ্যা:
বিজ্ঞান>
বাংলা মাধ্যম: ৪২০টি
ইংরেজি মাধ্যম: ৮০টি
মানবিক>
বাংলা মাধ্যম: ৭০টি
বাণিজ্য>
বাংলা মাধ্যম: ১৭০টি
কলেজটি যদি থাকে তোমার পছন্দের তালিকায় তাহলে শুরু করো তোমার জোসেফাইট হওয়ার প্রস্তুতি।
উল্লেখ্য কলেজের নিজস্ব কোনো হোস্টেল নেই।

# বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ!
অধ্যক্ষ – লেঃ কর্ণেল মোল্লা মেসবাহউদ্দিন আহমেদ!
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদর দপ্তর পিলখানাতে এটি অবস্থিত! পিলখানা শুনলেই সবার মনে পরে যায় ‘পিলখানা ট্রাজেডি এর কথা’ তাই না? খুবই স্বাভাবিক!
মন থেকে শ্রদ্ধা জানাই নিহতদের!
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ১৯৭৭ সালের ১ আগষ্ট স্থাপিত হয়! মূলত বিজিবি সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্থাপিত হলেও এখানে সকলেই পড়াশুনা করতে পারে।
১৬১ জন শিক্ষকমন্ডলী আমাদের কে সফলতার শিখরে পৌছে দেওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে! তাদের অবদান কখনো ভুলবো না!
শুধু মাত্র শিক্ষক না তারা আমাদের অভিভাবক!
এটি একটি বেসরকারি কলেজ! মাসিক বেতন ২৫৩০টাকা। বাংলা এবং ইংরেজি ভার্সন রয়েছে এ কলেজে!
বাংলা ভার্সনে সকাল এবং বিকালের শিফট বিদ্যমান! ইংরেজি ভার্সনে সকল শিক্ষার্থী একই সঙ্গে সকালের শিফটে ক্লাসে অংশগ্রহণ করে থাকে!
৪টি ভবন বাংলা ভার্সনের এবং ইংলিশ ভার্সনের জন্য আলাদা দুটি ভবন রয়েছে!
এ কলেজের ঐতিহ্য হলো খেলাধুলা! ধুমধাম করে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা! এবং তা নিসঃন্দেহে চোখ ধাধাঁনোর মতো!
অনেকগুলো ক্লাব রয়েছে যেমন – আইটি ক্লাব,ডিবেট ক্লাব,ফোটোগ্রাফি ক্লাব,বিজনেস ক্লাব,ইংলিশ ক্লাব!
ক্লাবের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দিকে পারদর্শী হতে পারছি!
কম্পিউটার ল্যাব আছে যেখানে প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নিজস্ব কম্পিউটার! সাইন্স ল্যাব রয়েছে! মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস করানো হয়!
বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের মেধা যাচাই করা হয়!
আমরা যেন পড়াশুনায় হাপিয়ে না উঠি তার জন্য পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন কালচারাল প্রোগ্রাম করা হয়!
এবং কলেজের ফলাফল বরাবরই খুব ভালো! বাংলাদেশের টপ টেন কলেজের মধ্যে এটি একটি!
আক্ষরিক তথ্যগুলোর পরে এবার আমি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের একজন শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতায় কলেজ টা কে তুলে ধরা হলো।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে চান্স পেয়েছি এই খবর টা যখন আমার কানে আসে আমি এতোটা খুশি হয়েছি যা বলে বোঝানো যাবে না। খুব ইচ্ছে ছিল পিলখানা টা ঘুরে দেখার। কলেজে চান্স না পেলে এই সৌভাগ্য টা আমার হয়তো হতো না!
প্রথমদিন যখন কলেজে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম আমি মুগ্ধ হয়ে হা করে চারিপাশ দেখছিলাম, পিলখানার সৌন্দর্যের সাথে কলেজ টা মিলেমিশে যেন একাকার! এই ইট,পাথর,কংক্রিটের শহরের মাঝে এ যেন এক মুগ্ধকর প্রকৃতিবিলাস!
গাছপালা,পুকুর,খোলা মাঠ এর মাঝে পড়াশুনা,আমার মতো শহুরের কাছে এটা বেশ রোমাঞ্চকর!
যেদিকে তাকাই শান্তির হাওয়া বইছে!
আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়ার পর যখন বৃষ্টি হয় তখন মনে হয় এ যেন কলেজ নয় এক ‘স্বর্গপুরী’!
খোলা মাঠে দাড়িয়ে যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস নেই পড়াশুনার সকল ক্লান্তি কেটে যায়!
পড়াশুনার চাপ কে নিতান্ত তুচ্ছ মনে হয় এ আঙিনায়!
এ আঙিনার একজন মানুষের কথা না বললেই নয়!
‘অধ্যক্ষ’ খুবই গাম্ভীর্যপূর্ণ একটা শব্দ!
এই শব্দের মানুষ গুলোও ভয়ের হয়,যার সামনে সবসময় ভয়ে ভয়ে যেতে হয় এই ধারণা টা আমার বদলে গেছে লেঃ কর্ণেল মোল্লা মেসবাহউদ্দিন আহমেদ স্যার কে দেখে! উনি আমাদের সাথে এতোটাই আন্তরিক যে ওনার সামনে যেতে আমাদের বিন্দুমাত্র ভয় হয় না বরং যখনই ওনাকে দেখি চোখটা সম্মান আর ভালোবাসায় চিকচিক করে ওঠে!
যখন ই দিশেহারা হয়ে পরি, হতাশায় নিমগ্ন হয়ে পরি স্যার এর কথায় নতুন করে ভরসা পাই,সে নতুন করে স্বপ্ন জোগায়! মরিচা ধরা স্বপ্নে শান দেয়!

‘কলেজের যাত্রা দুবছর না হয়ে যদি আরো কয়েকটা বছর বেশি হতো তাহলে মন্দ হতো না’
এ আঙিনা ছেড়ে যেতে এ মন নাহি চায়!

# সরকারি বিজ্ঞান কলেজ

ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020
ঢাকা বোর্ডের সেরা দশ কলেজ রিভিউ 2020

ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র ফার্মগেট সংলগ্ন তেজগাঁও এ ৯ একর জমি নিয়ে অবস্থিত “সরকারি বিজ্ঞান্ কলেজ ” অত্যন্ত সুপরিচিত নাম। এই ঐতিহ্যবাহী কলেজ টি ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে Technical High School হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে Intermediate Technical College এবং ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে B.Sc চালু করে “সরকারি বিজ্ঞান কলেজ ” হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। বি.সি.এস(সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার দ্বারা কলেজে পাঠদান সম্পন্ন করা হয়।প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ হতে হলে নূন্যতম ৪০% নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
আর যা না জানলেই নয়ঃ
ক্লাস রেগুলার হয় কিন্তু উপস্থিতি তোমার উপর। যদি মনে কর নিজে বাসায় ভালো মত পড়তে চাও এবং সাথে কো – কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস (opportunity অনেক)এ পারদর্শী হতে চাও, আর একই সাথে কলেজ জীবন উপভোগ ও প্যারা মুক্ত করতে চাও তাইলে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ বেস্ট চয়েজ।
***শুধু মাত্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দের জন্য। ন্যূনতম আবেদন যোগ্যতা জি.পি.এ-৫.০০ ( সাথে অবশ্যই নাম্বার ফ্যাক্ট)
**কোটা বিদ্যমান।
**মোট আসন সংখ্যাঃ ১২৩০ টি ।
** ভর্তি ফিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দ্বারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি ফি এবং বেতন গ্রহণ করা হয়. ( গত বছর ভর্তি ফি ছিলো সর্ব মোট ৫,৩১০ টাকা)
এবং মাসিক কোনো বেতন নেই।
**ভর্তির জন্য যা যা প্রয়োজনঃ
১। একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এর মূল কপি ও ফটো কপি
২।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত এস.এস.সি পাশের প্রশংসাপত্রের মূল কপি ও ফটোকপি
৩। এস.এস.সি এর এডমিট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড এর ফটোকপি।
৪। ৫ কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

**যাতায়াত ব্যবস্থাঃ
কলেজের নিজস্ব দুটি কলেজ বাস আছে। তুমি যদি সবিক এ পড় আর কলেজ বাস এ যদি একবারো না উঠো তবে তোমার সবিক এ পড়াটা বৃথা। বাস দুটি দুই রুটে চলাচল করেঃ স্পন্দনঃ০১(যাত্রাবাড়ী,সাইনবোর্ড) এবং স্পন্দনঃ০২(মিরপুর),তবে রুট একি থাকলেও বাস হয়তো পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
**এছাড়াও ঢাকার যেকোনো স্থান থেকেই পাবলিক বাস, লেগুনা, বা ট্রেন ধরে পৌছে যেতে পারো কলেজ এ।
**আবাসিক ব্যবস্থাঃ
ঢাকার বাহিরের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে দুটি কলেজ হোস্টেল।
সর্বোচ্চ ৩০০ আসন বিশিষ্ট কলেজ হোস্টেলদ্বয়ের তত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন মো.সালাহউদ্দিন স্যার,সহকারী অধ্যাপক,গণিত বিভাগ।
হোস্টেলগুলো হলোঃ
১.কাজী নজরুল ইসলাম ছাত্রাবাস।
২.ড.কুদরাত ই খুদা ছাত্রাবাস।

**নিয়ম ও বিশেষত্বঃ ভাইভা দিয়ে টিকতে হবে।আর ভালো মার্ক্স লাগবে। অনেক আবেদন পড়ে। বাছাই করে ঢাকার বাহিরের স্টুডেন্ট রা পায় সিট।
প্রতিটি হল এ নিজস্ব নামাজের জায়গা, অযু খানার ব্যবস্থা আছে। রাজনীতি মুক্ত। এক রুম এ ৫ জন।
সবার আলাদা বেড আলাদা টেবিল আলাদা ডেস্ক।
সব কিছুই হল এ আছে, খালি কাপড় আর বইখাতা নিয়া উঠবা।
আর সন্ধ্যার আগেই হল এ থাকতে হবে। কারণ গেট লাগায় দেয়। আর রেগুলার ক্লাস মাস্ট, হল এ থাকলে। আর তোমার হল এ অবশ্যই তোমার ব্যাচমেট থাকবে।
এছাড়া সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত হল প্রভোস্ট এর সহায়তা যেকোনো ক্ষেত্রে।
হল এ স্মার্টফোন বা ল্যাপ্টপ চালানো নিষেধ
** হলের খরচঃ গত বছর অনুসারে হল এ উঠার জন্য ১৮০০০ টাকা ভর্তির সময় আর প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা ফি দিতে হবে।.

**শিফটঃ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১.৩০। মাঝখানে ১১.০০ থেকে ১১.৩০ অব্দি ব্রেক।

** সহশিক্ষা কার্যক্রমঃ এ কলেজে রয়েছে বিজ্ঞান ক্লাব,বিতর্ক ক্লাব,আইটি ক্লাব,কালচারাল ক্লাব,ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব,স্পোর্টস ক্লাব এবং ফটোগ্রাফি ক্লাব সহ শহর কাপানো সুপ্রতিষ্ঠিত কিছু ক্লাব। যার একজন সদস্য হয়ে তুমি নিজের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করতে পারো। এছাড়াও সিনিয়র ব্যাচ এর ভাইয়ারা তো আছেই যেকোনো বিষয়ে সাহায্য করতে। আরো রয়েছে বিএনসিসি প্লাটুন ও রোভার স্কাউট।

**বিবিধঃ এখানে মোট ৮ টি শাখা ক্লাস নেওয়া হয়। প্রতি শাখায় প্রায় ১৫০-১৬৫ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করে। রয়েছে আলাদা আলাদা ল্যাব ও ল্যাব ফ্যাসিলিটিস। রয়েছে প্রায় ৬০০০+ বই সমৃদ্ধ লাইব্রেরী । আরো আছে প্রায় ৪ একর জমি নিয়ে অবস্থিত কলেজ খেলার মাঠ ও অন্যতম আকর্ষণ রাসেল চত্ত্বর যেখানে ক্লাসের ফাকে চলে অসংখ্য নীল-বাদামী সবিকান দের আড্ডা-আলোচনা। বরাবরের মতোই ধুলোময় ঢাকার বুকে এক খন্ড সজীব ভালোবাসা ও ধুমপান – রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস এ তোমাকে স্বাগতম।

About techrombd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!