Sunday , September 27 2020
Breaking News
#ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত প্রথম ছাত্রী#
#ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত প্রথম ছাত্রী#

#ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত প্রথম ছাত্রী#

#ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত প্রথম ছাত্রী# 
#ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত প্রথম মুসলিম ছাত্রী# । ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছিলো, একটা ছেলে যদি একজন মেয়ের সাথে কথা বলতে চায়, তবে তাকে প্রক্টর বরাবর দরখাস্ত দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রক্টর অনুমতি দিলেই সে কথা বলতে পারবে, এছাড়া নয়। এমনকি তার ক্লাসের কোন মেয়ের সাথেও না।
ডিসেম্বর ১৯২৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র ৬ বছর অতিবাহিত হবার পর। হঠাৎ একদিন কোলকাতা থেকে একজন যুবক এলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘুরে দেখবেন এই ভেবে। এরই মধ্যে কয়েকজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে সে ঘুরতে বের হলো। তখন কার্জন হলটি ছিলো বিজ্ঞান ভবন। ঘুরতে ঘুরতে তারা কার্জন হলের সামনে এসে পড়লো। তখন যুবকটি দেখলো দূরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যতটুকু অনুমান করতে পারলো তাতে সে বোধ করলো মেয়েটি একটা থ্রী কোয়ার্টার হাতার ব্লাউজ আর সুতির শাড়ি পরা আছে। তখন সে তার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করল, এই মেয়েটি কে? তখন তার বন্ধুরা সমস্বরে বলল, এ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম কোন নারী ছাত্রী। তখন সেই যুবক বলে, সত্যি? আমি এই মেয়েটির সাথে কথা বলতে চাই। তখন সে যুবক মেয়েটির সাথে কথা বলার জন্য একটু এগিয়ে গেলে তার বন্ধুরা তাকে বাঁধা দেয়। বলে, না তুমি যেওনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের সাথে কথা বলার অনুমতি নেই। তুমি যদি ওর সাথে অনুমতি ছাড়া কথা বলো তবে তোমার শাস্তি হবে। তুমি ওর সাথে কথা বলতে যেও না।
যুবকটি তখন বলল, “আমি মানি নাকো কোন বাঁধা, আমি মানি নাকো কোন আইন।” যুবকটি হেঁটে হেঁটে গিয়ে সেই মেয়েটির সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর তাকে বলল, আমি শুনেছি আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী। কি নাম আপনার জানতে পারি? মেয়েটি মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে বলল, ফজিলাতুন্নেছা। জিজ্ঞাসা করলো, কোন সাবজেক্টে পড়েন? বলল, গণিতে। গ্রামের বাড়ি কোথায়? #টাঙ্গাইলের_করটিয়া। ঢাকায় থাকছেন কোথায়? সিদ্দিকবাজার। এবার যুবক বললেন, আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী, আপনার সাথে কথা বলে আমি খুব আবেগ-আপ্লুত  হয়ে পড়েছি।
আজই সন্ধ্যায় আমি আপনার সাথে দেখা করতে আসবো। মেয়েটি চলে গেলো। এতক্ষনে এই সব কিছু দূরে দাঁড়িয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর স্যার দেখছিলেন। তার ঠিক তিনদিন পর, ২৯ ডিসেম্বর ১৯২৭, কলা ভবন আর বিজ্ঞান ভবনের নোটিশ বোর্ডে হাতে লেখা বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয়া হলো যুবকের নামে। তার নাম লেখা হলো, তার বাবার নাম লেখা হলো এবং বিজ্ঞপ্তিতে বলা হলো, এই যুবকের আজীবনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
কথিত আছে তারপরে এই যুবক আর কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। তবে ঢাকা বেতারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯৪০ সালে কাজী নজরুল ইসলাম, বদ্ধুদেব বসু ও আরও কয়েকজন এসেছিলেন। নজরুল ফজলুল হক হলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পল্লীকবি জসিমউদদীনও। সেই অনুষ্ঠানে নজরুল গান গাইতে থাকেন ও গানের ফাঁকে ফাঁকে চা পান করতে থাকেন। একপর্যায়ে গান বন্ধ দাড়িয়ে তিনি সূরা বাকারার গাভী সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তথ্যসূত্রঃ জীবনের শিলান্যাস – সৈয়দ আলী আহসান।
সেইদিনের সেই যুবক, বৃদ্ধ বয়সে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করলেন। যে যুবকটা আর কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ করেননি, তার মৃত্যুর পরে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে কবর দেওয়া হয়। এতক্ষনে আপনারা হয়তো বুঝতে পেরেছেন আমি কার কথা বলছি। সেই যুবকটি আর কেও নয় তার  নাম, #বিদ্রোহী_কবি_কাজী_নজরুল_ইসলাম
পুনশ্চ: মেয়েটি ফজিলাতুন্নেসা জোহা, কবি নজরুল ওনাকে নিয়ে ‘বর্ষা বিদায়’ কবিতা লেখেন। টাঙ্গাইলের সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে জন্ম নেয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোক উদ্ভাসিত কারি, মহিয়সী নারী বেগম ফজিলতুন্নেসা জোহা ।
বেগম ফজিলতুন্নেসা জোহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন (১৯৪৮-৫৭)। তিনিই প্রথম বাঙালি মুসলমান ছাত্রী যিনি উচ্চ শিক্ষার্থে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যান। বেগম ফজিলতুন্নেসা সম্পর্কে পরিচয় পাওয়া যায় কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা থেকে…. “ বেগম ফজিলতুন্নেসা অসামান্য সুন্দরীও ছিলেন না অথবা বীনানিন্দিত মঞ্জুভাষিণীও ছিলেন না। ছিলেন অঙ্কের এম এ এবং একজন উচুঁদরের বাক্‌পটু মেয়ে ”জন্ম বেগম ফজিলতুন্নেসার জন্ম ১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে। পিতার নাম ওয়াজেদ আলী খাঁ, মাতা হালিমা খাতুন।। ওয়াজেদ আলী খাঁ মাইনর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।
শিক্ষা জীবন:
মাত্র ৬ বছর বয়সে ওয়াজেদ আলী খাঁ ফজিলতুন্নেসাকে করটিয়ার প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে দেন। তিনি ১৯২১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক ও ১৯২৩ সালে প্রথম বিভাগে ইডেন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ফজিলাতুন্নেছা ১৯২৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে গণিত শাস্ত্রে এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাশ
ফার্স্ট (গোল্ড মেডালিস্ট) হয়েছিলেন। অতঃপর তিনি ১৯২৮ সালে বিলেতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করেন।
নিখিল বঙ্গে তিনিই প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট। উপমহাদেশে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বিলাত থেকে ডিগ্রি এনেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার ব্যাপারে করটিয়ার #জমিদার_মরহুম_ওয়াজেদ_আলী_খান_পন্নী (চাঁদ মিয়া) বিশেষ উৎসাহ ও অর্থ সাহায্য করেন। বিলেতে তাঁর অবস্থান কালীন সময়ে ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে প্রথম ডিপিআই।
পাবারিক তথ্য:
বিদেশে পড়ার সময় ফজিলতুন্নেসার সাথে খুলনা নিবাসী আহসান উল্ল্যাহর পুত্র জোহা সাহেবের সাথে ফজিলাতুন্নেছার পরিচয় হয়। পরে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
বর্নাঢ্য কর্মজীবন:
কর্মজিবনে তার অসামান্য অবদান লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতায় প্রথমে স্কুল ইন্সপেক্টরের চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালের আগস্টে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় মুসলিম সমাজ-সেবক-সংঘে’র বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে তাঁর বক্তব্যটি নারী জাগরণের মাইল ফলক হয়ে আছে। এই অধিবেশনে তিনি বলেন ‘নারী-শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন ও বলেন। নারী সমাজের অর্ধাঙ্গ, সমাজের পূর্ণতালাভ কোনোদিনই নারীকে বাদ দিয়ে সম্ভব হতে পারে না। সেই জন্যেই আজ এ সমাজ এতোটা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন,
The highest form of society is one in which every man and woman is free to develop his or her individuality and to enrich the society what is more characteristic of himself or herself.
কাজেই এ সমাজের অবনতির প্রধান কারণ নারীকে ঘরে বন্দি করে রেখে তার Individuality বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখা। নারী-শিক্ষা সম্বন্ধে এতোটা কথা আজ বলছি তার কারণ সমাজের গোড়ায় যে-গলদ রয়েছে সেটাকে দূরীভূত করতে না-পারলে সমাজকে কখনই সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারা যাবে না।’
তিনি ১৯৩৫ সালে বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। বেথুন কলেজে চাকুরিরত অবস্থায় দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে এসে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ১৯৪৮ সালে। বেগম ফজিলাতুন্নেছা ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষা ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্যিক বিভাগসহ ইডেন কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়।১৯৫২ সালে ইডেন কলেজের মেয়েরা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কলেজের অভ্যন্তর থেকে মিছিল বের করার প্রস্ত্ততি নিলে উর্দুভাষী এক দারোগা হোস্টেলে ঢুকে মেয়েদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করার এক পর্যায়ে খবর পেয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা কলেজে এসে তার বিনানুমতিতে কলেজ প্রাঙ্গণে ঢোকার জন্য দারোগাকে ভৎসনা করে হোস্টেল থেকে বের করে দেন নিজের দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বলে। নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি সম্পর্কে সওগাতসহ অনেক পত্রিকায় তার বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প প্রকাশিত হয়।
জীবনের পরিসমাপ্তি:
এই বিদুষী নারী ১৯৭৭ সালে ২১ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। এই মহীয়সী নারীর স্মৃতি রক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৭ সালে ফজিলাতুন্নেছার নামে হল নির্মাণ করা হয়। (সংগৃহীত)

About techrombd

Check Also

সর্বশেষ লাইভ আপডেট-নোভেল করোনা ভাইরাস

সর্বশেষ লাইভ আপডেট-নোভেল করোনা ভাইরাস

সর্বশেষ লাইভ আপডেট-নোভেল করোনা ভাইরাস। নোভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে। এতে …

সর্বশেষ লাইভ আপডেট-নভেল করোনাভাইরাস

সর্বশেষ লাইভ আপডেট-নভেল করোনাভাইরাস। নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সকল দেশে। এতে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত …

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯খি:

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০১৯খি:   বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ …

ektee bari ektee khamar ebek,ektee bari ektee khamar,bari ektee khamar ebek,ektee bari ektee ,job exam result 2019

Ektee Bari Ektee Khamar (EBEK) Job Exam Result 2019

Ektee Bari Ektee Khamar (EBEK) Job Exam Result 2019. Ektee Bari Ektee Khamar (EBEK) Job …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!